আমাদের সম্পর্কে
আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সামাজিক সংগঠন, যা মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দাওয়াহ, দ্বীনি শিক্ষা, সমাজসেবা এবং গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মানবিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। সুন্নাহর আদর্শ ও তাসাওফের চর্চার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতিহাস ও পটভূমি
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন চট্টগ্রাম থেকে উদ্ভূত একটি আদর্শিক, অরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ইসলামী সামাজিক সংগঠন, যার ভিত্তি সুন্নি আকীদা, রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সুন্নাহ এবং তাসাওফের আধ্যাত্মিক চর্চার উপর প্রতিষ্ঠিত। সংগঠনটির জন্ম মূলত সমাজে দ্বীনি জ্ঞান বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ জাগরণ, এবং গরিব-অসহায় মানুষের কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলার উদ্দেশ্য থেকে।
প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে কয়েকজন আলেম, সামাজিক কর্মী ও তরুণ দ্বীনি ছাত্র একত্র হয়ে দেখান যে মানুষের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা, দয়া এবং নৈতিকতার জাগরণ অত্যন্ত প্রয়োজন। তাদের নেতৃত্বেই আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলে এবং চট্টগ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থানীয় মহল্লা ভিত্তিক দাওয়াহ কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তীতে সংগঠনটি কেবল দাওয়াহ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, মানবিক সাহায্য, শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, গরীব-দুস্থদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান, এতিম ও ছাত্র কল্যাণ, এবং সামাজিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি পরিচালনা শুরু করে। ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে বিশাল তাফসীরুল কুরআন মাহফিল, মিলাদুন্নবী ﷺ জশ্ন এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষার আসর আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
দ্বীনি শুদ্ধতা, তাসাওফ, সুন্নাহর আদর্শ এবং মানবসেবার চেতনাকে ধারণ করে আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন আজ দেশ-বিদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দাওয়াহ, শিক্ষা ও সমাজসেবা প্রকল্প পরিচালনা করছে।
বর্তমানে সংগঠনটি তরুণদের দ্বীনি ও নৈতিক চরিত্র গঠন, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সেবা এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজের কল্যাণে একটি কার্যকর, শান্তিপূর্ণ ও সুন্নাহভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
টাইমলাইন
-
১৯৮৬
আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীনের যাত্রা শুরু
-
1988
সাংগঠনিক রূপ লাভ
-
1989
প্রথম ছাত্রবৃত্তি প্রদান
-
1989
প্রথম আন্তর্জাতিক শাখা কাতার শাখার অনুদান প্রদান
-
২০০০
ইয়াতিম পুনর্বাসন সহায়তা কার্যক্রমের সূচনা
-
২০০৪
আনজুমানের ট্রাস্টিবোর্ড গঠন
-
২০১২
তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের সূচনা
-
২০১৭
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ২০ ট্রাক ত্রাণ সহায়তা প্রদান
-
২০১৮
ইমাম হোসাইন রাদ্বি. মাস্টার সিরাজ সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার যাত্রা শুরু
-
২০২১
করোনাকালীন সেবামাস পালন
-
২০২৫
শহীদ রঈস উদ্দীনের পরিবারকে অনুদান প্রদান
অভিমত

“দ্বীনের যথাযথ অনুশীলন ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ব জাগ্রত করার প্রয়াসেই আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীনের সূচনা। মানুষকে বিশুদ্ধ ইসলামী জ্ঞান দেওয়া এবং দরিদ্রদের সহায়তা করাই ছিল আমাদের প্রথম অঙ্গীকার। আজ আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন এর সাফল্য আল্লাহর অনুগ্রহেরই প্রতিফলন।”
আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চৌধুরী
ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারম্যান

“এই সংগঠন ছিল আমাদের হৃদয়ের স্বপ্ন। আমরা চাইতাম এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে যুবসমাজ নৈতিকতা, সুন্নাহ ও আধ্যাত্মিকতার আলোকে নিজেদের গড়ে তুলবে। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর ফজলে আজ আনজুমানের কার্যক্রম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যতদিন মানুষ সেবা পাচ্ছে, ততদিন আমাদের এই প্রচেষ্টা সফল।”
আল্লামা এম এ মতিন
সদস্য

“আমাদের সমাজে দ্বীনি শুদ্ধতা, নৈতিকতা এবং ভ্রাতৃত্বের যে অভাব দেখা গিয়েছিল, তা পূরণ করার উদ্দেশ্যে আমরা আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন প্রতিষ্ঠা করি। মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা জানানো এবং গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের প্রথম সংকল্প। আজ সংগঠনটির অগ্রগতি দেখে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।”
শায়খুল হাদিস আল্লামা কাজী মঈনুদ্দীন আশরাফী
ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারম্যান

“আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীনের শুরুটা ছিল কষ্টসাধ্য, কিন্তু আমাদের সবার মাঝে ছিল ঐক্য ও দায়িত্ববোধ। মাদ্রাসা, মসজিদ, রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির উঠোনে—যেখানে সুযোগ পেয়েছি, সেখানে দ্বীনি শিক্ষা প্রচার করেছি। আজ আনজুমান একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠন; এটি আল্লাহর রহমত এবং মানুষের ভালোবাসার ফল।”
অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ
নির্বাহী সম্পাদক

“সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ এবং ভ্রাতৃত্বের যে অভাব প্রকট হয়েছিল, তা দূর করার প্রত্যয়ে আমরা আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন গড়ে তুলি। মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের প্রাথমিক অঙ্গীকার। আজ সংগঠনটির সাফল্য দেখে আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।”
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম
নির্বাহী সম্পাদক

“প্রথম দিকে আমাদের কাছে ছিল না কোনো বড় অফিস, বাজেট বা সম্পদ—কিন্তু ছিল নিখাদ নফস-শুদ্ধির তালীম এবং মানুষের কল্যাণের ইচ্ছা। সেই শক্তিই আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। আজ আনজুমানের দাওয়াহ, শিক্ষা ও সমাজসেবা কার্যক্রম হাজারো মানুষের উপকারে আসছে—এটাই আমাদের জন্য সর্বোচ্চ তৃপ্তি।”
এড. আবু নাছের তালুকদার
উপদেষ্টা
- নীতি ও আদর্শ
- লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- রাসূলুল্লাহ ﷺ – এর সুন্নাহর আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা এবং সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
- দ্বীনী ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে মাদরাসা, মসজিদ, এতিমখানা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করা।
- গরিব, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানব সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। খাদ্য বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার এবং প্রকাশনার মাধ্যমে ইসলামের সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য গড়ে তোলা।
- আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে তাসাওফভিত্তিক শিক্ষা-চর্চা এবং সামাজিকভাবে তাসাওফের প্রচার ও প্রসার।
- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নৈতিক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।
- তাসাওফের পরিশুদ্ধ চর্চার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা
- দাওয়াহ কার্যক্রমের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক আকীদা ও জীবনব্যবস্থা প্রচার করা
- দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ
- যুবসমাজকে সুন্নাহভিত্তিক জীবনধারায় গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা
- গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে মানবিক সহায়তা প্রদান
- শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা ও শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন
- দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা প্রদান
- সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা
- উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করা